প্রিন্ট এর তারিখঃ Aug 22, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Aug 22, 2026 ইং
ইরানের চোখ ফাঁকি দিয়ে যেভাবে চলছে তেলের জাহাজ

ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধের প্রথম ১৬ দিনেই তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছিল। সে সময় তেলের দাম ৪৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৩.৯০ ডলারে পৌঁছায়। তবে ছয় মাস পর পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত। লড়াইয়ের দামামা বাজলেও বিশ্ববাজারে তেলের দাম এখন ১০০ ডলারের নিচেই অবস্থান করছে। আর এর পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ কোনো কূটনৈতিক সমঝোতা নয়, বরং সমুদ্রে তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর এক অভিনব ‘লুকোচুরি’ খেলা।
পারস্য উপসাগরে ইরানি ড্রোনের হুমকি মোকাবিলায় সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার ও আরব আমিরাত এক দারুণ কৌশল বেছে নিয়েছে। সিএনএনের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেলবাহী জাহাজগুলো এখন মাঝসমুদ্রে পৌঁছানোর পর নিজেদের অবস্থান জানান দেওয়ার যন্ত্র বা ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দেয়। এরপর মার্কিন নৌবাহিনীর পাহারায় তারা হরমুজ প্রণালি হয়ে ওমান উপসাগরে পৌঁছায়। সেখানে অপেক্ষমাণ অন্য জাহাজে তেল খালাস করে খালি ট্যাংকারগুলো আবার একই পথে ফিরে আসে।
এই পদ্ধতিকেই বলা হচ্ছে ‘ডার্ক ট্রানজিট’। এর মাধ্যমে সাধারণ ব্যবসায়ীদের ওপর থেকে ঝুঁকি কমেছে। এখন বীমা খরচ এবং নিরাপত্তার পুরো দায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার ও তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর ঘাড়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে জাহাজ ট্র্যাকিং সংস্থা কেপলার জানায়, গত মার্চ মাস থেকে পারস্য উপসাগরে দেড় হাজারেরও বেশি এমন ‘অদৃশ্য’ যাতায়াতের ঘটনা ঘটেছে। জুলাইয়ের শেষে গ্রিসের মালিকানাধীন ‘কিকু’ নামের বিশাল একটি জাহাজের যাত্রাপথ থেকেই এই কৌশলের প্রমাণ মেলে। তেল নিয়ে দুবাই উপকূলের কাছে পৌঁছানোর পর জাহাজটির সিগন্যাল হঠাৎ গায়েব হয়ে যায়। পরদিন হরমুজ প্রণালির অন্য পাশে আবার এর সংকেত ধরা পড়ে।
শুধু তাই নয়, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে বিকল্প পথেও তেল পাঠাচ্ছে। সৌদি আরব প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল তেল ভিন্ন পথে লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দরে পাঠাচ্ছে। পাশাপাশি ব্রাজিল, গায়ানা, ভেনেজুয়েলা ও যুক্তরাষ্ট্র তেলের উৎপাদন বাড়িয়েছে। এসব পদক্ষেপের কারণেই সংঘাতের মাঝেও তেলের দাম স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হয়েছে।
এই ওয়েবসাইটের সকল ছবি ও ভিডিও অনুমতি ব্যতীত ব্যবহার করা নিষেধ। উক্ত নিউজ পোর্টালটির নিবন্ধন কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন আছে।